ঢাকায় নিজের একটি সুন্দর নীড় সবারই স্বপ্ন। তবে একটি ফ্ল্যাট কেনা জীবনের সবচেয়ে বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি। সঠিক যাচাই-বাছাই না করে তাড়াহুড়ো করে ফ্ল্যাট কিনলে পরবর্তীতে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।
আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার আগে কোন ৫টি বিষয় আপনার অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত:
১. জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Legality & Documents)
ফ্ল্যাট কেনার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো কাগজের বৈধতা। ফ্ল্যাটটি যে জমির ওপর নির্মিত, তার মালিকানা স্বত্ব সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করুন।
- সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS) এবং বিএস (BS) খতিয়ান পরীক্ষা করুন।
- বিক্রেতা বা ডেভেলপারের নামে নামজারি (Mutation) করা আছে কিনা এবং হালনাগাদ ভূমির খাজনা (Land Tax) পরিশোধ করা আছে কিনা তা নিশ্চিত হোন।
২. রাজউক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন (RAJUK Approval)
বিল্ডিংটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK) বা সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত নকশা (Sanctioned Plan) অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত কোনো অংশ তৈরি করা হলে পরবর্তীতে সেটি আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। এছাড়া ‘বিল্ডিং কোড’ মেনে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে কিনা তা খেয়াল রাখুন।
৩. ডেভেলপারের নির্ভরযোগ্যতা ও অতীত ট্র্যাক রেকর্ড (Developer’s Reputation)
আপনি যদি কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট কেনেন, তবে রিহ্যাব (REHAB) এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের নিবন্ধন আছে কিনা দেখে নিন। বাজারে তাদের সুনাম কেমন এবং তারা এর আগে কোনো প্রজেক্ট সময়মতো বুঝিয়ে দিতে পেরেছে কিনা, তা খোঁজ নিন।
৪. কার্পেট এরিয়া বনাম সুপার বিল্ট-আপ এরিয়া (Size & Layout)
অনেক সময় ব্রোশিওরে ফ্ল্যাটের সাইজ ১৪০০ স্কয়ার ফিট লেখা থাকলেও বাস্তবে ভেতরে ঢোকার পর জায়গা অনেক কম মনে হয়। এর কারণ হলো কমন স্পেস (যেমন: সিঁড়ি, লিফট, লবি)। ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার আগে আপনার প্রকৃত ব্যবহারের জায়গা বা ‘কার্পেট এরিয়া’ কতটুকু, তা পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।
৫. ইউটিলিটি সংযোগ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা (Utility & Amenities)
ফ্ল্যাটে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং পানির বৈধ সংযোগের বর্তমান অবস্থা কী, তা জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঢাকা শহরের অনেক নতুন এলাকায় পানির সমস্যা বা বৈধ গ্যাস সংযোগের সীমাবদ্ধতা থাকে। এছাড়া জেনারেটর ব্যাকআপ, সিকিউরিটি সিস্টেম, পার্কিং স্পেস এবং সিসিটিভি সুবিধার ব্যাপারেও নিশ্চিত হোন।
ফ্ল্যাট কেনা মানে কেবল একটি বাসস্থান কেনা নয়, এটি আপনার কষ্টার্জিত আয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। তাই চুক্তিপত্রে সই করার আগে প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে সমস্ত কাগজপত্র ভালো করে স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা করিয়ে নিন।
